
বিদেশে কাজ।সঠিক পথেই যান।
কাগজপত্র, সত্যায়ন, মেডিকেল, বিএমইটি ছাড়পত্র ও টিকিট — সব প্রস্তুত ও যাচাই করা, যাতে শেষ ধাপে এসে কিছুই আটকে না যায়। চাকরির অফার আসতে হবে লাইসেন্সপ্রাপ্ত রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমেই, আর আপনি যাদের সাথে কথা বলছেন তাদের লাইসেন্স সত্যিই আছে কি না, সেটি যাচাই করতে আমরা সাহায্য করব।
- কাগজপত্র ও সত্যায়ন
- মেডিকেল ও বিএমইটি সহায়তা
- এজেন্সির লাইসেন্স যাচাই
প্রতিটি ধাপ টাকা দেওয়ার আগেই বুঝিয়ে বলা, আর প্রতিটি রসিদ আপনার নিজের নামে।
যেসব দায়িত্ব আমাদের
- কাগজপত্র প্রস্তুতি
- সত্যায়ন ও পিসিসি
- মেডিকেল ও বিএমইটি
- টিকিট ও যাত্রা
কে কী করে, জেনে নিন
চারটি পক্ষ, চারটি আলাদা দায়িত্ব।
বাংলাদেশ থেকে বিদেশে কর্মসংস্থান একটি নিয়ন্ত্রিত প্রক্রিয়া। মানুষ যেসব বিপদে পড়েন, তার বেশিরভাগই শুরু হয় কার দায়িত্ব কোনটি তা না জানা থেকে।
বিদেশের নিয়োগকর্তা
ডিমান্ড লেটার ও চাকরির অফার দেন এবং বেতন, কর্মঘণ্টা ও চুক্তির মেয়াদ ঠিক করেন। বাকি সবকিছুই এই কাগজটির ওপর দাঁড়িয়ে।
লাইসেন্সপ্রাপ্ত রিক্রুটিং এজেন্সি
কেবল বিএমইটির লাইসেন্সপ্রাপ্ত এজেন্সিই বিদেশে কর্মী পাঠাতে পারে। এর লাইসেন্স নম্বর প্রকাশ্য তথ্য এবং যাচাই করা যায় — তাই সবসময় যাচাই করাই উচিত।
বিএমইটি ও সরকার
আপনাকে নিবন্ধন করে, যে ছাড়পত্র ও স্মার্ট কার্ড ছাড়া বৈধভাবে যাওয়া যায় না তা দেয়, আর যাত্রার আগে বাধ্যতামূলক ওরিয়েন্টেশন পরিচালনা করে।
কাফিলা বিডি
আপনার ভ্রমণ ও কাগজপত্রের ডেস্ক। কাগজ প্রস্তুত ও যাচাই করি, সত্যায়ন ও মেডিকেলের ব্যবস্থা করি, ছাড়পত্রের খোঁজ রাখি এবং টিকিট বুক করি। আমরা চাকরির অফার দিই না।
স্বজনের কাছে, পড়াশোনায় বা চিকিৎসার জন্য যাচ্ছেন?
ভিসা সহায়তা দেখুনসামনের পথটুকু
অফার থেকে উড়োজাহাজ পর্যন্ত।
দশটি ধাপ, যে ক্রমে সেগুলো সত্যিই ঘটে। পরের ধাপে কী আসছে তা জানাই সবচেয়ে সহজ সুরক্ষা।
ধাপ ০১
চাকরির অফার ও ডিমান্ড লেটার
বিদেশের নিয়োগকর্তা পদ, বেতন ও চুক্তির মেয়াদ উল্লেখ করে ডিমান্ড লেটার ও অফার দেন। আর কিছু শুরু হওয়ার আগে এটি মন দিয়ে পড়ুন।
যা যা লাগবে
- ডিমান্ড লেটার
- চাকরির অফার বা চুক্তির খসড়া
- পাসপোর্টের কপি
ধাপ ০২
রিক্রুটিং এজেন্সি যাচাই
এজেন্সির বিএমইটি লাইসেন্স বৈধ কি না এবং ডিমান্ড লেটারটি তাদের নামে নিবন্ধিত কি না নিশ্চিত হোন। কেউ এই প্রশ্নে বিরক্ত হলে সেখানেই থেমে যান।
যা যা লাগবে
- এজেন্সির লাইসেন্স নম্বর
- অফিসের ঠিকানা
- ছাপা রসিদ বই
ধাপ ০৩
চুক্তিটি ভালো করে পড়ুন
বেতন, কর্মঘণ্টা, ওভারটাইম, থাকা, খাওয়া, বিমান ভাড়া এবং কোন খরচ কে দেবে। বাংলায় বুঝে নিন, আর স্বাক্ষরিত একটি কপি নিজের কাছে রাখুন।
যা যা লাগবে
- চাকরির চুক্তি
- নিজের জন্য স্বাক্ষরিত কপি
ধাপ ০৪
পাসপোর্ট ও ব্যক্তিগত কাগজপত্র
যথেষ্ট মেয়াদ থাকা মেশিন রিডেবল বা ই-পাসপোর্ট, সেই সাথে আপনার নির্দিষ্ট কাজটির জন্য প্রয়োজনীয় পরিচয় ও শিক্ষাগত কাগজপত্র।
যা যা লাগবে
- বৈধ পাসপোর্ট
- জাতীয় পরিচয়পত্র
- জন্মনিবন্ধন
- শিক্ষা বা দক্ষতার সনদ
ধাপ ০৫
পুলিশ ক্লিয়ারেন্স
বেশিরভাগ গন্তব্যের জন্য পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট লাগে এবং এতে সময় যায়। শেষ মুহূর্তে টের পাওয়ার বদলে আগেভাগেই শুরু করুন।
যা যা লাগবে
- পিসিসি আবেদন
- পাসপোর্টের কপি
- সাম্প্রতিক ছবি
ধাপ ০৬
সত্যায়ন
শিক্ষা ও অভিজ্ঞতার সনদ সাধারণত সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এবং পরে ঢাকায় গন্তব্য দেশের দূতাবাস থেকে সত্যায়ন করাতে হয়।
যা যা লাগবে
- মূল সনদপত্র
- সত্যায়নের ফি
- পাসপোর্টের কপি
ধাপ ০৭
মেডিকেল পরীক্ষা
আপনার গন্তব্যের জন্য অনুমোদিত মেডিকেল সেন্টারে স্বাস্থ্য পরীক্ষা। ফলাফলের মেয়াদ সীমিত, তাই কখন করাচ্ছেন সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।
যা যা লাগবে
- পাসপোর্ট
- ছবি
- মেডিকেল সেন্টারের ফি
ধাপ ০৮
ভিসার আবেদন ও স্ট্যাম্পিং
নিয়োগকর্তা বা এজেন্সি ওয়ার্ক ভিসার আবেদন করে, অনুমোদন হলে পাসপোর্টে স্ট্যাম্প পড়ে। এই ফলাফল কেউ আগে থেকে কথা দিতে পারে না।
যা যা লাগবে
- পাসপোর্ট
- মেডিকেল রিপোর্ট
- সত্যায়িত কাগজপত্র
ধাপ ০৯
বিএমইটি নিবন্ধন ও ছাড়পত্র
নিবন্ধন, ছাড়পত্রের স্মার্ট কার্ড, কল্যাণ বোর্ডের সদস্যপদ ও বিমা, এবং যাত্রার আগে বাধ্যতামূলক প্রি-ডিপার্চার ওরিয়েন্টেশন।
যা যা লাগবে
- ভিসা স্ট্যাম্পযুক্ত পাসপোর্ট
- স্বাক্ষরিত চুক্তি
- কল্যাণ বোর্ডের ফি
ধাপ ১০
টিকিট ও যাত্রা
যোগদানের তারিখ মিলিয়ে টিকিট বুক করা হয়, আর আপনি রওনা দেন প্রতিটি কাগজ নিজের হাতে নিয়ে — মূল কপিসহ।
যা যা লাগবে
- ছাড়পত্রের স্মার্ট কার্ড
- এয়ার টিকিট
- সব মূল কাগজপত্র
দেশ ও নিয়োগকর্তাভেদে ধাপ, সময় ও শর্ত আলাদা হয়, আর নিয়মও বদলায়। এটি প্রক্রিয়াটির সাধারণ রূপ — আপনার নিজের ক্ষেত্রে বিএমইটি ও আপনার রিক্রুটিং এজেন্সি যা বলবে, তার বিকল্প নয়।
নিজেকে রক্ষা করুন
কাউকে টাকা দেওয়ার আগে।
বিদেশে বাংলাদেশি কর্মীদের সাথে যা কিছু খারাপ ঘটে, তার প্রায় সবটাই যাত্রার আগেই চোখে পড়ার মতো ছিল। এই লক্ষণগুলো খেয়াল রাখুন, আর এই অভ্যাসগুলোই আপনাকে বাঁচাবে।
এসব শুনলে সরে আসুন
এর যেকোনো একটিই যথেষ্ট কারণ।
“ভিসা গ্যারান্টিড” — ভিসার নিশ্চয়তা কেউ কখনোই দিতে পারে না
“এখন নগদে দিন, রসিদ পরে দেব”
“শুধু সই করে দিন, চুক্তিটা তো নিয়মরক্ষা”
“পাসপোর্টটা আমাকে দিন, আমি নিরাপদে রাখব”
“ভিজিট ভিসায় চলে যান, ওখানে গিয়ে ওয়ার্ক ভিসা করে নেবেন”
“বিএমইটি নিয়ে ভাববেন না, আমাদের আলাদা ব্যবস্থা আছে”
প্রতিবারই এগুলো করুন
মানুষটিকে যতই চেনা মনে হোক।
- রিক্রুটিং এজেন্সির বিএমইটি লাইসেন্স নম্বর নিজে যাচাই করুন
- যত টাকাই দিন, নিজের নামে রসিদ বুঝে নিন
- চুক্তিটি বাংলায় পড়ুন, আর নিজের স্বাক্ষরিত কপি রাখুন
- পাসপোর্ট নিজের কাছে রাখুন, আর যে কাগজই দেবেন তার ফটোকপি রাখুন
- বিএমইটি নিবন্ধন ও ওরিয়েন্টেশন সম্পন্ন করুন — দুটোই আপনার সুরক্ষার জন্যই
- এজেন্সির নাম, নিয়োগকর্তা ও কোথায় যাচ্ছেন — পরিবারকে জানিয়ে রাখুন
যে কাগজগুলো নিয়ে আসবেন
এগুলো নিয়ে আসুন, এক বসাতেই আপনার অবস্থানটা ঠিক কোথায় তা বলে দিতে পারব।
ছোট্ট একটি তালিকা
সিদ্ধান্তের আগে।
টাকা হাতবদল হওয়ার আগে যে প্রশ্নগুলো করা উচিত।
মানুষ যেসব দেশে যান
যেসব গন্তব্যে আমরা সবচেয়ে বেশি সহায়তা করি।
আমাদের ডেস্কে এই পথগুলোই সবচেয়ে বেশি আসে। বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য কোন দেশ আসলে খোলা, তা সরকারি চুক্তি ও নিয়োগকর্তার চাহিদা অনুযায়ী বদলায় — এই মুহূর্তে কোনটি সত্যিই চলছে, তা আমরা খোলাখুলি জানাব।
উপসাগরীয় দেশ
- সৌদি আরব
- সংযুক্ত আরব আমিরাত
- কাতার
- ওমান
- কুয়েত
- বাহরাইন
এশিয়া
- মালয়েশিয়া
- সিঙ্গাপুর
- ব্রুনাই
- মালদ্বীপ
- জাপান
- দক্ষিণ কোরিয়া
ইউরোপ
- রোমানিয়া
- ক্রোয়েশিয়া
- পোল্যান্ড
- ইতালি
অন্যান্য
- জর্ডান
- লেবানন
- মরিশাস
- লিবিয়া
এখানে কোনো কিছুরই প্রাপ্যতার নিশ্চয়তা দেওয়া হচ্ছে না। পথ খোলে ও বন্ধ হয়, আর কিছু গন্তব্যে দুই দেশের যেকোনো সরকারই সময়ে সময়ে নিষেধাজ্ঞা দেয়। এগুলোর ওপর ভিত্তি করে পরিকল্পনার আগে আমাদের জিজ্ঞেস করে নিন।
দুশ্চিন্তা নয়, কাগজগুলো নিয়ে আসুন
আগে আমাদের সাথে বসুন।
অফারটি, এজেন্সির নাম আর এ পর্যন্ত যা যা পেয়েছেন সব নিয়ে আসুন। আপনি কোথায় দাঁড়িয়ে আছেন, কী বাকি আছে আর খরচ কত হওয়া উচিত — কাউকে এক টাকা দেওয়ার আগেই জানিয়ে দেব।

